ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নিজের পুরনো দল বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে মুখ খুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে দলে ফেরার ক্ষেত্রে তিনি একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ কোলে নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তাকে যদি দলে ফেরাতে হয়, তবে তার সঙ্গে বহিষ্কৃত হওয়া অন্য সকল নেতাকর্মীদেরও সসম্মানে পুনর্বহাল করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। শুধু তাকেই নয়, তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সরাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আরও ১০ জন নেতাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দলে ফেরা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্পষ্ট করে বলেন, “ব্যক্তি রুমিন ফারহানার চেয়ে আমার কর্মীদের ত্যাগ বড়। আমাকে দলে ফেরাতে হলে আমার যে সব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদেরও বিএনপিতে ফেরাতে হবে। ১৭টি বছর তারা অনেক কষ্ট করেছে, তাদের অবদানের কথা আমি ভুলতে পারি না।”
নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘হাঁস’ বেছে নেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। রুমিন বলেন, “শৈশবে আম্মুর চাকরির সুবাদে বড় বাসায় থাকতাম, তখন অনেক হাঁস-মুরগি পালতাম। পরে ছোট ফ্ল্যাটে চলে যাওয়ায় সেই অভ্যাস আর থাকেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আমার অনেক হাঁস-মুরগি আছে, তাদের সাথেই আমার অবসর সময় কাটে। সেই শৈশবের স্মৃতি আর ভালোবাসা থেকেই আমি হাঁস প্রতীক নিয়েছি।”
নির্বাচনী লড়াইকে অত্যন্ত কঠিন আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের দিন দুপুরের পর বেশ কিছু কেন্দ্রে জাল ভোট এবং ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি বলেন, “জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে আমি নিজে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে লড়াই করে ভেতরে ঢুকেছি। পুনরায় ভোট গণনা করিয়েছি এবং সেখানে ভুয়া ভোটও পেয়েছি। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের ভালোবাসায় আমি জয়ী হয়েছি।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। অর্থাৎ ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন রুমিন।