বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বগুড়ার পুত্রবধূ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বগুড়াজুড়ে। গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাড়িতে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন চলছে। দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে সেখানে ভিড় করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ। শোক ও নীরবতায় স্তব্ধ হয়ে আছে বাগবাড়ি এলাকা।
শুধু বাগবাড়িই নয়, পুরো বগুড়াজুড়েই নেমে এসেছে গভীর শোক। বগুড়ার পুত্রবধূ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ-অনুভূতি একান্তই ঘরোয়া। নিজেদের ভোটে নির্বাচিত এই নেত্রী দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন—এ গর্ব বগুড়াবাসীর কাছে চিরকালীন। তাই তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য কিংবা স্বজন হারানোর মতোই সমব্যথী হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে দল, দেশ ও মানুষের স্বার্থে অবিচল ও আপসহীন নেতৃত্ব দেওয়ার পথে গত দেড় দশকে নেত্রীর ওপর যে অবর্ণনীয় নিপীড়ন নেমে এসেছে, তা স্মরণ করতে গিয়ে অশ্রুসজল হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারাও। তাদের কণ্ঠে শোকের পাশাপাশি রয়েছে গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধা।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে দিনাজপুরের মেয়ে খালেদা খানম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে পুত্রবধূ হয়ে আসেন। সে সময় তার স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের দুঃসহ দিনগুলোতে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার কাঁধে নেওয়ার সময়ও বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক পরিপাটি বাঙালি গৃহবধূ—সংসার ও সন্তানদের যত্নেই ছিল তার ব্যস্ততা। স্বামী যখন দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে ব্যস্ত, তখন তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই ছেলে ও পরিবারের শান্তি।
আজ সেই গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা বগুড়ার পুত্রবধূর বিদায়ে শোকে নীরব বগুড়া—চোখের জলে, দোয়ায় আর গভীর শ্রদ্ধায় তাকে বিদায় জানাচ্ছে এই