• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
পরিবর্তন ,রাজিয়া সুলতানা আনিকা দুপচাঁচিয়ায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত কিশোরগঞ্জে মাছের উৎপাদন বাড়াতে ৬ চাষিকে মৎস্য উপকরণ বিতরণ কিশোরগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত, পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ শেরপুরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ও সফল উদ্যোক্তাদের সন্মাননা প্রদান শেরপুরে ৩৩৩ অসহায় পরিবারের মাঝে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনলাইন আম বিক্রি করে বদলগাছীর তরুণ উদ্যোক্তা মোস্তাকিমের ভাগ্যবদল হরিপুরে ক্যান্সার লিভার ও হৃদরোগে আক্রান্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

পুঠিয়ায় পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা!

রাজশাহী প্রতিনিধি / ২০ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

32

 

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম, গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী স্থানীয় একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে সব ধরনের জমি সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা নিতে গেলে মাসের পর মাস বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, অথচ দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মুহূর্তেই মিলছে সমাধান।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিস চলাকালীন খোদ ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই আফান এবং দলিল লেখক তাহের আলী নামের দুই দালাল অফিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ও ফাইলপত্র ঘাটাঘাটি করছেন।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়
স্থানীয় ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, “এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজ হয় না।” হোল্ডিং খোলা, জমির তথ্য সংগ্রহ ও নামজারিসহ (মিউটেশন) বিভিন্ন সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে দালালদের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই অনৈতিক অর্থ লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে।
অপর এক ভুক্তভোগী কালাম হোসেন জানান, জমি কেনার আগে তার তথ্য যাচাই করতে অফিসে গেলে অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম সরাসরি এক হাজার টাকা উপঢৌকন (ঘুষ) দাবি করেন। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ হবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দেন।

অনলাইনে নামজারির আবেদনের পর প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মূল দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। কিন্তু এই কাজটিকে বাণিজ্যে পরিণত করেছেন তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী। তিনি জাকির হোসেন নামের এক বহিরাগত দালালের মাধ্যমে নামজারি প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নিচ্ছেন। জাকির হোসেন ভূমি অফিসের কোনো বৈধ কর্মচারী না হলেও তিনি প্রতিনিয়ত অফিসে উপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির নিজেকে “উন্নয়ন খাতে কর্মরত” বলে দাবি করে অফিসের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের অনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদের বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ধোপাপাড়া মৌজার (জে.এল নম্বর ৩৯) আওতায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত মোট ৯টি দাগে (২৮০১, ২৮০২, ২৮০৩, ২৮০৪, ২৮০৫, ২৮০৬, ২৮১০, ২৭২৭ ও ২৭৩০) প্রায় ২৫ বিঘা (৮.২৭ একর) সরকারি ধানী জমি রয়েছে। অথচ মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে শাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুর রহমানকে জমিগুলো একচ্ছত্র দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শাহিদুল বছরের পর বছর ধরে ওই খাস জমিতে পুকুর খনন করে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ভোগদখল করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সুফি এবরার আহমেদ বকসী রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন, যা তিনি প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।

পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও খাস জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান বলেন, এরকম কোন অভিযোগ আমার কাছে নাই। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা