বগুড়ার ধুনট উপজেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে সারমিন সুলতানা দীপ্তি আজ এক অবিচল ও প্রদীপ্ত নাম। ১৯৭৬ সালের ২ অক্টোবর উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই তেজস্বী নারী ১৯৯২ সালে ধুনট ডিগ্রি কলেজের আঙিনায় ছাত্র রাজনীতির যে আদর্শিক বীজ বপন করেছিলেন, সময়ের বিবর্তনে আজ তা এক সুবিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে।
তৎকালীন কলেজ ছাত্র সংসদের ‘ছাত্রী বিশ্রামাগার সম্পাদিকা’ হিসেবে রাজনৈতিক দীক্ষা নেওয়া দীপ্তি ধাপে ধাপে নিজের প্রজ্ঞা, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ধুনট সদর ইউনিয়নের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি এবং ধুনট উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন শেষে বর্তমানে তিনি ধুনট উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতির গুরুভার নিষ্ঠার সাথে সামলাচ্ছেন। দীর্ঘ তিন দশকের এই যাত্রায় রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তার উপস্থিতি ছিল অগ্রণী এবং সুদৃঢ়।
দীপ্তির জীবন যেন তপ্ত দুপুরে শ্রান্ত পথিকের কাছে এক পশলা বৃষ্টির মতো শীতল ও স্বস্তিদায়ক।
বৈবাহিক সূত্রে তিনি এক লড়াকু ও আদর্শবাদী রাজনৈতিক নেতার ঘরণী। তার স্বামী আবুল মনসুর আহম্মেদ পাশা ধুনট ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের দুইবার নির্বাচিত ভিপি এবং বর্তমানে ধুনট উপজেলা জাতীয়তাবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে অবিচল হেঁটে চলছেন।
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এই দম্পতি যেন একই বৃন্তের দুটি ফুল, যারা প্রতিকূলতার প্রবল ঝড়ে নুয়ে না পড়ে বরং দলের প্রতিটি দুর্দিনে বিশ্বস্ত অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে জনসেবার ব্রত পালন করেছেন। শত বাধা ও প্রতিকূলতা মাড়িয়েও তারা ত্যাগের মহিমায় দলীয় আদর্শকে উঁচিয়ে ধরেছেন। পেশায় শিক্ষক ও হোমিও চিকিৎসক হওয়ায় দীপ্তির হৃদয়ে মিশে আছে আর্তমানবতার সেবার এক অকৃত্রিম স্পৃহা, যা তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে গেছে।
শরতের কাশফুলের মতো শুভ্র ও নমনীয় ব্যক্তিত্বের এই নারী আজ ধুনটবাসীর প্রাণের স্পন্দনে পরিণত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গভীরতা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তাকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পাওয়ার যে আকাক্সক্ষা সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্রভাবে তৈরি হয়েছে, তা যেন শুষ্ক চাতকের মেঘের প্রতি এক ব্যাকুল আকুলতা।
জনমানুষের এই অদম্য ভালোবাসা ও শক্তিশালী দলীয় সংহতিকে পাথেয় করে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেত্রীর দল ও সাধারণ জনগণের অফুরন্ত সমর্থনে বিপুল ভোটে জয়লাভের ব্যাপারে রয়েছে পাহাড়সম আত্মবিশ্বাস। সেই সুদৃঢ় মনোবলকে সঙ্গী করে তিনি এখন এক সোনালী ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যেখানে তার জনসেবার দিগন্ত হবে আরও বিস্তৃত, বৈচিত্রময় এবং সার্থক।