নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গোপনে গভর্নিং বডির কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে মাগুড়া দোলাপাড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে পকেট কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসার অভিভাবকরা।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পুরোনো কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে নতুন কমিটি গঠনের নিয়ম রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করার পাশাপাশি ওই এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বাজারে নির্বাচনী তফসিলের নোটিশ টানাতে হয়, যাতে বিষয়টি জনসাধারণ ও অভিভাবকরা জানতে পারেন। কিন্তু তা না করে নিজের মনগড়া নিয়মে গোপনে গভর্নিং বডি গঠনের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মাদ্রাসা বোর্ডে দাখিল করেছেন অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক।
ওই নির্বাচনী তফসিলের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই হতে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ, গ্রহণ ও জমাদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ০৪ আগস্ট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও বৈধ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ০৫ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় দেওয়া হয়েছে এবং ১৪ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক গোপনে তার পছন্দনীয় লোকদের নাম বিভিন্ন পদে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে বোর্ডে প্রেরণ করেন।
অভিভাবক ওবায়দুল ইসলাম জানান, “এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক যোগদানের পর থেকেই কৌশলে নিজের আত্মীয়স্বজন দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছেন। এবারও গোপনে মাদ্রাসায় তার মনমতো লোক দিয়ে নীল নকশার কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছেন।”
অভিভাবক বুধু মিয়া জানান, “আমার মেয়ে এই মাদ্রাসার নিয়মিত শিক্ষার্থী। কমিটি গঠনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অধ্যক্ষ মনগড়া কমিটি পাঠিয়েছেন। এর আগেও একই নিয়মে একটি বিতর্কিত কমিটি গঠন করেছিলেন। নিয়ম ছাড়াই তার মন মতো অযোগ্য লোক দিয়ে কমিটি গঠন করায় শিক্ষার মান নিম্নস্তরে নেমে এসেছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন না হওয়ায় অনেক অভিভাবক ছেলে-মেয়েদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিভাবকের দাবি—লুকোচুরি না খেলে প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হোক।”
এ বিষয়ে কথা বললে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক জানান, “সকল নিয়ম মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা।”
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, “মাদ্রাসা কমিটির বিষয়ে আমার হস্তক্ষেপের কোনো এখতিয়ার নেই। তাই আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা বলেন, “যদি এরকম কোনো অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”