দেশে ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বায়ুবাহিত এই রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো প্রতিরোধ না করলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। Expanded Programme on Immunization (ইপিআই) কর্মসূচির আওতায় দেশে শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে এমআর টিকার দুই ডোজ দেওয়া হয়। কোনো শিশু এই টিকা থেকে বাদ পড়লে দ্রুত তা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাম আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে তাকে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন পৃথক কক্ষে রাখতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের সুরক্ষায় এই ব্যবস্থা জরুরি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি, ফলের রস ও সুষম খাদ্যের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Vitamin A গ্রহণ হামের জটিলতা কমাতে সহায়ক।
এ ছাড়া নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার এবং ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে দানা, চোখ লাল হওয়া এবং তীব্র কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।