গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জেরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলা ‘গণহত্যা’ মামলায় বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন আনল জার্মানি। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় বার্লিন আর ইসরায়েলকে সমর্থন বা কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র জোসেফ হিন্টারসেহার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বার্লিন ঘোষণা করেছিল যে, তারা আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি হস্তক্ষেপ বা মধ্যস্থতা করবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে দেশটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জার্মানির এই পিছু হটার নেপথ্যে রয়েছে নিকারাগুয়ার দায়ের করা একটি পৃথক মামলা। আইসিজে-তে নিকারাগুয়া অভিযোগ করেছে যে, জার্মানি ইসরায়েলকে অস্ত্র ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ‘গণহত্যায়’ মদদ দিচ্ছে। জোসেফ হিন্টারসেহার জানান, জার্মানি এখন নিজেরাই একটি আইনি প্রক্রিয়ার পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা অন্য দেশের হয়ে লড়ার চেয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ মোকাবিলা করতেই বেশি গুরুত্ব দিতে চায়।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জার্মানি ছিল ইসরায়েলের অন্যতম কট্টর ও নিঃশর্ত সমর্থক। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এবং নিজেদের ওপর আইনি খড়গ নেমে আসায় বার্লিনের এই সিদ্ধান্তকে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।