জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অভিনেতা ও রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ শামস সুমনের প্রথম জানাজা বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, নাট্যব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা প্রিয় অভিনেতাকে শেষ বিদায় জানাতে সেখানে উপস্থিত হন। জানাজা শেষে তার মরদেহ রাজধানীর সিএমএইচের হিমঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শামস সুমনের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে তারা ইতোমধ্যেই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তারা দেশে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হবে। জানাজায় উপস্থিত হয়ে চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “সুমন আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক ছিল। তার এই হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শামস সুমন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর মাধ্যমে তার সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মঞ্চ, ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় সমান দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা শামস সুমনের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘আয়না কাহিনী’ ও ‘চোখের দেখা’। শিল্পের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য তিনি সহকর্মীদের মাঝে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের অভিনয় জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।