আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুড়িগ্রামে নতুন পোশাক কিনতে পরিবারের সাথে কাপড়ের মার্কেটগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে বিত্তবান, মধ্যবিত্ত সহ সামর্থ্যবান পরিবারের শিশুরা। তবে নতুন কিনতে না পেরে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে দূর্গম চর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর অনেক দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা। তাই সেই সব শিশুদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের সহযোগিতায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের শোভার কুটি গ্রামের কুড়িগ্রাম বিশেষ বিদ্যালয়ের সামনে ‘গার্ডিয়ান ঈদ মার্কেট’ নামে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে ‘বি ওয়াই ও ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’।
এতে প্রায় তিন শতাধিক অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুর হাতে ঈদের নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়।
ঈদকে সামনে রেখে ‘গার্ডিয়ান ঈদ মার্কেট’ নামের অস্থায়ী স্টলে সাজানো নানা রঙের পোশাকের মধ্য থেকে নিজের পছন্দমতো নতুন জামা বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে এসব অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুর চোখেমুখে ফুটে ভেসে উঠে অন্যরকম অনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
স্টলে ছেলে শিশুদের জন্য শার্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি এবং মেয়ে শিশুদের জন্য ফ্রক, কামিজসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক রাখা হয়। আগে থেকেই অস্থায়ী স্টল তৈরি করে নতুন পোশাকগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। শিশুরা সেই স্টলে গিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বেছে নেয়।
আয়োজক সূত্র জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ওই এলাকায় একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে অসচ্ছল পরিবারের শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়। সেই জরিপের তথ্য অনুযায়ী পোশাক সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু পোশাকও রাখা হয়, যাতে আরও শিশু এই উদ্যোগের সুফল পেতে পারে।
বি ওয়াই ও ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার জিহাদ আকন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংগঠন বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবারের ‘গার্ডিয়ান ঈদ মার্কেট’ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেড।
তিনি আরও জানান, আজ থেকে এই পোশাক বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও এমন আয়োজন করা হবে। আসন্ন ঈদের আগে মোট এক হাজার অসহায় শিশুর মাঝে নতুন পোশাক বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঈদের আগে নতুন পোশাক পেয়ে এসব অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের চোখেমুখে ঝিলিকানো আনন্দ এবং শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের হাসিই যেন এই মানবিক উদ্যোগের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের হৃদয়েও প্রশংসা ও উচ্ছ্বাসের ঢেউ তুলেছে।