রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে এক পথচারীকে প্রকাশ্যে মারধর ও অশালীন আচরণের অভিযোগে আলোচিত রুশ-বাংলাদেশি মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে তাকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তার বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গুলশানে জ্যামে আটকে থাকা অবস্থায় এক পথচারীর ব্যাগ মনিকার শরীরে লাগলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পথচারীকে তিনি ধাক্কা দিচ্ছেন এবং নিজের ব্যাগ দিয়ে বারবার আঘাত করছেন। মারধর শেষে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ‘ফ্লাইং কিস’ ছুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। যদিও মনিকার দাবি, ওই পথচারী তাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছিলেন, তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি।
লিগ্যাল নোটিশে যা বলা হয়েছে:
১. প্রকাশ্যে ক্ষমা: আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
২. কনটেন্ট অপসারণ: ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এবং এ ধরনের অশালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সকল কনটেন্ট অনতিবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।
৩. বৈধতা যাচাই: বাংলাদেশে মনিকা কবিরের অবস্থানের সপক্ষে বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে কি না, তার প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
নোটিশে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না করলে তার বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ ১৯৭৬, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিকা কবির মূলধারার ফ্যাশন জগতে পরিচিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ভিডিও এবং খোলামেলা মন্তব্যের জন্য আগে থেকেই সমালোচিত। এই মারধরের ঘটনাটি তার ওপর আইনি চাপের পাশাপাশি জনরোষও বাড়িয়ে দিয়েছে।