ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে তেহরান তাদের হামলার ধার ও গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগের চেয়ে আরও বিধ্বংসী ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে দফায় দফায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের মুখে এবার যুদ্ধ থেকে ‘পালানোর রাস্তা’ খুঁজতে শুরু করেছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জেরুজালেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা ইরানের সঙ্গে আর দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে জড়াতে চান না। গিডিয়ন সার বলেন, “ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে কোনো ‘অনন্তকালব্যাপী যুদ্ধ’ করতে চাইছে না। যখন আমরা মনে করব যুদ্ধ বন্ধ করার সঠিক সময় এসেছে, তখন আমরা আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন নাগরিক ও সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট নিশ্চিত করেছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক ও সেনা ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন।
নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরাসরি সহায়তা করেছে। টমি পিগট আরও জানান, নাগরিকদের সরিয়ে নিতে দুই ডজনের বেশি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অনেক মার্কিন নাগরিক নিজ উদ্যোগেই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে এলাকা ছেড়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই তড়িঘড়ি পশ্চাদপসরণ মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিমত্তা এবং নতুন নেতৃত্বের অনমনীয় মনোভাব ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলে দিয়েছে, যার ফলে এখন তারা সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।