ইরান ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান উত্তজনার মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের ঘটনায় কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (১ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের বুকে ছুরিকাঘাত করেছে, আমরাও তাদের বুকের ভেতর ছুরিকাঘাত করব।’
আলি লারিজানি আরও সতর্ক করে জানান, হামলাকারীরা মনে করছে তারা আক্রমণ করে পালিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু তারা ভুল করছে। ইরানের সেনাবাহিনীর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরান রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করেছে। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দেশটির শাসনব্যবস্থা নিয়ে যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন লারিজানি। তিনি জানান, বর্তমানে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্ষদ সাময়িকভাবে দেশটির রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবে। এই পর্ষদে থাকছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানিকে বিশেষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।