সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছে। গত রবিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এই অবরোধের কারণে শাহজাদপুর , পাবনা ও রাজশাহী যাওয়ার প্রধান সড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে এবং এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হুমকির মুখে পড়তে হয়
সিরাজগঞ্জ রোডে প্রধান সড়ক অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ট্যাংকলরি শ্রমিকরা সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে এবং বেশ কয়েকটি লরিকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
অবরোধে অংশ নেয়া শ্রমিক নেতা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা আর এই চাঁদাবাজি সহ্য করতে পারছি না। প্রতিদিন কাজ করতে গিয়ে আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে হয়, না দিলে কাজ করতে বাধা দেয়া হয়।’
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিএনপি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নয়।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চাঁদাবাজির অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে তা স্থানীয় রাজনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
এই ধরনের ঘটনা সমাজে আস্থার সংকট তৈরি করে এবং সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদদের থেকে দূরে সরে আসে। এভাবে চাঁদাবাজি চলতে থাকলে শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের পথ সংকুচিত হবে এবং তাদের জীবনে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের এই সমস্যার সমাধানে তৎপর হতে হবে। অন্যথায়, এই অবরোধ দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
অবরোধের কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কোন সমঝোতা হয়নি এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।