বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দেড় যুগের স্তব্ধতা ভেঙে অবশেষে জাগরণ ঘটেছে। প্রশাসনের অবহেলায় দীর্ঘ ১৮ বছর অচল হয়ে পড়ে থাকা শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ফিরে পেয়েছে তার হারানো প্রাণস্পন্দন। এক সময়ের নিস্তব্ধ এই আঙিনা এখন আবারও মুখরিত হবে সুর, ছন্দ আর রঙের মায়াবী খেলায়। সাংস্কৃতিক এই পুনর্জাগরণের নেপথ্যে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমু। শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আজ একাডেমির রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিলেন। এখন থেকে এই বিদ্যাপীঠের ছায়াতলে কোমলমতি শিশু-কিশোররা সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভাকে বিকশিত করার অবারিত সুযোগ পাবে।
২৩ মে শনিবার বিকেল ৪ ঘটিকায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সভাকক্ষে ওরিয়েন্টশন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা, শেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র স্বাধীন কুমার কুণ্ডু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা জাসাস এর সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, শেরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা প্রমুখ। দীর্ঘ দেড় যুগের জীর্ণতা মুছে ফেলে নতুন প্রাণের স্পন্দনে উজ্জীবিত এই মাহেন্দ্রক্ষণে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিক্ষকবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী ও এলাকার সচেতন সুধীসমাজ। এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে শেরপুরের শিল্পমনস্ক মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করল নতুনের জয়গান।