• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
‎ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা কৃষক পরিবারের মেয়েকে অপহরণ, মেয়ের ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা রায়গঞ্জে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত ৭১ হাজার পশু গাইবান্ধায় ফায়ার সপ্তাহ- ২০২৬ উদ্বোধন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সহ ২০ জনের কুড়িগ্রাম এনসিপিতে যোগদান ‎বগুড়ার শেরপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু জয়পুরহাটে দাখিল পরীক্ষার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ গাইবান্ধা জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৫ প্রার্থী আব্দুল আলিম হজ্ব কাফেলার হজ্ব যাত্রীদের নিয়ে মক্কায় গমন

জয়পুরহাটে দাখিল পরীক্ষার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

আহসান হাবীব আরমান জয়পুরহাট। / ৪৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

55

 

জয়পুরহাটে দাখিল পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে আসন বিন্যাসে নজিরবিহীন কারসাজি, সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হানাইল নোমানীয়া কামিল মাদ্রাসা ও মাদ্রাসাটির কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন ও কয়েকজন সাধারণ পরীক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, গত ১৭ মে’ দাখিল রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষা শুরুর ঠিক প্রাক্কালে হানাইল পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম আকস্মিকভাবে ১০ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। পূর্ব নোটিশ ছাড়াই জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা ব্যতিরেকে অন্য সব মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের দ্বিতীয় তলার কক্ষে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে, দ্বিতীয় তলা থেকে সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের নিচে এনে ১০ নম্বর কক্ষে বসার ব্যবস্থা করেন যেখানে শুধুমাত্র ঐ মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরাই পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিধান না থাকলেও ঐদিন তা অমান্য করা হয়। দাখিল পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা-২০২৬ এর ৪.৬.৪ ধারা অনুযায়ী, একই মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি আসন বিন্যাস করা সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই নিয়ম ভাঙা হয়েছে, যা কেন্দ্রের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা জানায়, বহুনির্বাচনী (MCQ) পরীক্ষার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব করার সুযোগ নিয়ে নির্ধারিত কক্ষে বিশেষ উপায়ে প্রশ্ন সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে পরীক্ষা চলাকালীন সুকৌশলে কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয় এবং কিছু অনিয়মিত শিক্ষার্থীকে সিসি ক্যামেরার আওতাবহির্ভূত কক্ষে পরীক্ষা দেওয়ানোর ঘটনা ঘটে।

পরীক্ষার্থীরা এই অনিয়ম প্রমাণে নির্দিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের হানাইল মাদ্রাসায় ভর্তি হতে এবং প্রবেশপত্র জমা দিতে বাধ্য করার মতো অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পূর্বে জেলা প্রশাসনের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক উক্ত কেন্দ্রে পরিদর্শক বা অন্য কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হানাইল মাদ্রাসার কতিপয় শিক্ষক অবৈধ সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে খণ্ডকালীন ও সার্বক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, একটি নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসন বিন্যাস পরিবর্তন করা সুস্পষ্ট অপরাধ এবং আমরা এর সুষ্ঠু সরেজমিন তদন্ত চাই।

এ বিষয়ে হানাইল নোমানীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম বলেন, কেন্দ্রে বহিরাগতদের মাধ্যমে নকল সরবরাহসহ সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি আরও বলেন, যারা অভিযোগ করেছে, তারা ডাহা মিথ্যা কথা বলছে। কেন্দ্রে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার কারণে কোনো বিশেষ মহলের ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে আঘাত লেগেছে। নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থী পরিস্থিতি তৈরি হওয়াতেই হানাইল মাদ্রাসা এবং এই পরীক্ষা কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ আল-মামুন মিয়া মুঠোফোনে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে, বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা