বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য এক কলেজছাত্রী তার নিজ জন্মদাতা বাবা বেলাল হোসেন(৬৬)কে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আহত বেলাল হোসেন উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের খানপুর সরদারপাড়া গ্রামের মৃত হাতেম আলীর সরদারের ছেলে। গত ১১মে সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহতের বড় ভাই আমজাদ হোসেন সরদার ১২মে মঙ্গলবার রাতে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার পর হতে মিম আক্তার লাপাত্তা রয়েছে।
আহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে রাতের খাবার শেষে বেলাল হোসেন সহ পরিবারের সকল সদস্য ঘুমিয়ে পড়েন। এ সুযোগে বেলালের ছোট মেয়ে মিম আক্তার(২০) বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অনার্স পড়–য়া ছাত্রী ধারালো বটি নিয়ে তার ঘুমন্ত বাবাকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। এসময় বেলালের চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ততক্ষনে বেলালের দুই হাতের ৬টি আঙ্গুল মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গলা কেটে গিয়ে মারাত্বক আহত হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় আহতের ভাই ও ভাতিজারা দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(শজিমেক) প্রেরণ করা হয়।
আহত বেলাল কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, আমার পরিবারে ৬টি কন্যা সন্তান ছিল। ইতিপূর্বে ৩টি কন্যা সন্তান মারা গিয়েছে। দুই মেয়েকে বিয়েও দেয়া হয়েছে। কিন্তু কলেজ পড়–য়া ছোট মেয়ে মিম আক্তার তাদের ভাগের সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। লিখে না দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এহেন ঘটনা ঘটিয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান জানান, মেয়ে কর্তৃক বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।