সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ও চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে কি না—এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে সামছুল আহসান বলেন, “ইসি বা সরকার থেকে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই ফল প্রকাশ করা হবে।”
২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ নিয়ে বিভিন্নভাবে অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঠিক করিনি। ঠিক কবে ফল প্রকাশ হবে—এটা এখন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। তবে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হবে বা ফল প্রকাশ করা হবে না—এমন তথ্য সঠিক নয়। ফল প্রস্তুত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়ায়। কেউ কেউ ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দাবি করে সেগুলো ফেসবুকে শেয়ারও করেন। পাশাপাশি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে তথাকথিত ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে নকলের সহায়তা দেয়।
এ ঘটনায় ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮ জন, দিনাজপুরে ১৮ জন, কুড়িগ্রামে ১৬ জন এবং রংপুরে ২ জন রয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনেও নামেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে অধিদপ্তর।