দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী ২৯ রমজানে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩০ রোজা পূর্ণ করে কাল ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত আগেই নির্ধারিত ছিল। তবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারের আকাশে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্বকালে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হলেও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশে কাল শনিবার উদযাপিত হচ্ছে খুশির এই ঈদ।
রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লিরা এক কাতারে নামাজ আদায় করবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এই জামাতে ইমামতি করবেন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৯টায় বিকল্প জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ওজু ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সারাদেশের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। সেখানে লাখো মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য জামাতটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।