দীর্ঘ ১৮ বছর পর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় নির্ভার হয়ে ঘুরছে দর্শনার্থীরা
নীলফামারী প্রতিনিধি
/ ১৩৩
Time View
Update :
রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
Share
দীর্ঘ ১৮ বছর পর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় নির্ভার হয়ে ঘুরছে দর্শনার্থীরা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা জমে উঠেছে। মেলার অবস্থান শহরের বিমানবন্দর সড়কের সেনানিবাস এলাকায় হওয়ায় নেই কোনো বাড়তি ঝামেলা। নারী, শিশু, কিশোর, কিশোরী এবং শিক্ষার্থীদের বেশ উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করার মতো। মেলা অঙ্গনে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকায় নারী, শিশু ও উঠতি বয়সের মেয়েরা নির্ভার হয়ে বিনোদন উপভোগ করছে। গত ২ জুলাই মেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপি এ মেলা চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিশেষ করে মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্যের সমাহার ঘটেছে প্রায় শতাধিক স্টলে। স্থানীয়ভাবে তৈরী কুটির শিল্পের মান বেশ উন্নত হওয়ায় তা ক্রেতাদের টানছে। বিশেষ করে...
48
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা জমে উঠেছে। মেলার অবস্থান শহরের বিমানবন্দর সড়কের সেনানিবাস এলাকায় হওয়ায় নেই কোনো বাড়তি ঝামেলা। নারী, শিশু, কিশোর, কিশোরী এবং শিক্ষার্থীদের বেশ উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করার মতো। মেলা অঙ্গনে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকায় নারী, শিশু ও উঠতি বয়সের মেয়েরা নির্ভার হয়ে বিনোদন উপভোগ করছে।
গত ২ জুলাই মেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপি এ মেলা চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিশেষ করে মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্যের সমাহার ঘটেছে প্রায় শতাধিক স্টলে। স্থানীয়ভাবে তৈরী কুটির শিল্পের মান বেশ উন্নত হওয়ায় তা ক্রেতাদের টানছে। বিশেষ করে বাঁশ, বেত ও মাটির তৈরী পণ্য মেলায় আগত দর্শকদের হৃদয় ছুতে পেরেছে। কেনাবেচাও হচ্ছে।
কথা হয় মেলার দোকানি রমেশ চন্দ্র পাল, জান্নাত আরা, মুশফিক আহমেদসহ অনেকের সঙ্গে। তারা উচ্ছাশ প্রকাশ করে বলেন, সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় মেলা হওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছি। বাড়তি ব্যয় নেই। মাস্তানি, ধান্দাবাজি বলতে মেলা অঙ্গন শূণ্য। মেলায় বিরাজমান পরিবেশে আমরা শান্তিতে ক্রেতা সাধারণের সঙ্গে লেনদেন করছি। মেলা কর্তৃপক্ষও সব সময় খোঁজ খবর নিচ্ছে।
মেলায় আগত দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দিতে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ। মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে দেশের গান। জারি, সারি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালী, পল্লী গীতি। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের ভাওয়াইয়া গান মেলার দর্শকদের মাতিয়ে তুলছে।
মেলার বিনোদন বিষয়ে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সৈয়দপুর প্রতিনিধি মোঃ মাইনুল হকের সঙ্গে কথা হয় প্রবীন সাংবাদিক ও সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি গীতিকবি কাজী জাহিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ধান, গান ও নদী নালার দেশ। কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে বেশির ভাগ মানুষ জড়িয়ে আছে। গান, কবিতা তাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে লেপ্টে আছে। লাঙ্গল চালাতে, ফসল বুনতে, ফসল নিড়াতে কিংবা সেই ফসল ঘরে তুলতে অথবা নদীর স্রোতে নৌকা ভাসিয়ে গলা ছেড়ে তারা করে সুরের সাধনা। বাংলার ভূ-প্রকৃতিই এই সরস সংগীতের আকড়। যদিও সেই আগের অবস্থা বর্তমানে নেই। তারপরেও সেইসব স্মৃতি এখনো বাংলার মানুষদের টানে।
বিশেষ করে রংপুরের ভাওয়াইয়া গান এই জনপদের মানুষের বলতে গেলে হৃদয়ের স্পন্দন। ভাওয়াইয়া গানে অতি সরলভাবে গ্রাম বাংলার মানুষের জীবন জীবিকাকে তুলে ধরা হয়। তাতে জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রেম বিরহ ভরা থাকে।
তার মতে, দীর্ঘ ১৭/১৮ বছর পর সৈয়দপুরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা হচ্ছে। মেলাকে ঘিরে রয়েছে বিনোদন। যা সকল মানুষকে আত্মার খোরাক জোগাতে সক্ষম। রুচিসম্মত পরিবেশে মেলা চলায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই ধরনের মন্তব্য করেন সমাজসেবী আশরাফুল আলম।
মেলাটি বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে রাত ১১টায় শেষ হয়। যা সুস্থ বিনোদন প্রেমিদের কাছে হৃদয়গ্রাহ্য হয়েছে বলে অনেকের মন্তব্যে জানা গেছে। (ছবি আছে)