গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট আমবাগান গ্রামে এক সিগারেট কোম্পানির কর্মী রায়হানকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৪ এপ্রিল।
ভুক্তভোগী রায়হান জানান, তিনি কোম্পানির মার্কেটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ধাপেরহাট পীরেরহাট মেলায় বিভিন্ন দোকানে সিগারেট সরবরাহ করছিলেন। এ সময় ধাপেরহাটের সাবেক বিএনপি নেতা সুমনের সঙ্গে তার দেখা হয়। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সুমন তাকে আমবাগানের বিভিন্ন দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বড়ছত্রগাছা এলাকায় নিয়ে যান, যেখানে আগে থেকেই কিছু লোকজন অবস্থান করছিল।
রায়হানের অভিযোগ, সেখানে সুমন তাকে মেলার খরচের কথা বলে ১০০০-১২০০ টাকা দাবি করেন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কর্মী শাওন (সাবেক পুলিশ সদস্যের ছেলে), রনি এবং আরও ৫-৬ জন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তার কাছ থেকে প্রায় ৭,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৭-৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়—যাতে বলা হয়, তিনি মেলায় মাদক বিক্রি করতে এসে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে পুনরায় মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার কাছে ১,২০,০০০ টাকা দাবি করা হয়।
পরিস্থিতির এক পর্যায়ে রায়হান তার বাবাকে মোবাইল ফোনে লোকেশন জানালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে অভিযুক্তরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রায়হানের বাবা ও স্বজনরা জানান, চাকরিরত অবস্থায় তার সঙ্গে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।