আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজ এখনো কাটেনি। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয় কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে নীল শিবিরের নতুন এক সাম্রাজ্য বিস্তারের গল্প। টুর্নামেন্টের মাঝপথে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর যেভাবে ভারত ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।
এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে হেড কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সাহসী রণকৌশলকে। বিশেষ করে সুপার এইট পর্বে বিপর্যয়ের মুখে সাঞ্জু স্যামসনকে ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি ছিল এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’। গম্ভীরের সেই আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন স্যামসন। মাত্র ৩ ম্যাচে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ৩০০-এর বেশি রান সংগ্রহ করে তিনি শুধু দলকে চ্যাম্পিয়নই করেননি, নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’-এর খেতাবও।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আইসিসি রিভিউতে তিনি জানান, গম্ভীরের এই সাহসী জুয়া এবং খেলোয়াড়দের ওপর অগাধ বিশ্বাসই ভারতের জন্য সোনা ফলিয়েছে। মাঠে ফেরার পর স্যামসনের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো; বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার অপরাজিত বিধ্বংসী ইনিংসগুলো ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৯৭*, ৮৯ এবং ৮৯ রানের সেই তিনটি ইনিংস প্রমাণ করেছে যে, সঠিক নেতৃত্ব ও মানসিকতায় যে কোনো পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।