মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশেও বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রেখে অনলাইনে ক্লাস চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, পাকিস্তানে জ্বালানির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে এবং ভারতে তেল সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত তেল মজুদের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোথাও কোথাও তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পরিকল্পিত পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে যানজট কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাব সামনে এসেছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু থাকলে জ্বালানির ওপর চাপ বাড়বে। তাই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইন ক্লাস বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কোভিড-১৯ সময়কার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এ বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ অনলাইনের পরিবর্তে সময়সূচি পরিবর্তন বা অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পদ্ধতিও কার্যকর হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।