• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
কুড়িগ্রামে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চরের পাঁচ শতাধিক মানুষ পেলো চিকিৎসাসেবা পুষ্টি, উদ্যোক্তা ও টেকসই উন্নয়নে কুড়িগ্রামে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসার এসআই রোকসানাকে ‘ম্যাডাম’ ডাকায় আটক যুবক রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পুরাভিটায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড রায়গঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালুত বন্যা বিষয়ক গণসচেতনতামূলক “মাঠ মহড়া” অনুষ্ঠিত “মানুষের পাশে মানুষ’–রাজারহাটে অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনওর, সংবাদ দেখে ছুটে গেলেন প্রতিবন্ধী রফিকুলের বাড়ি। উদ্বোধনের তিন বছর পরও অচল পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ, জেলা প্রশাসকের নির্দেশেও মিলছে না অগ্রগতি গোবিন্দগঞ্জে পেট্রোল মজুদ করে বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ী কারাদণ্ড দুপচাঁচিয়া নবাগত ওসির সঙ্গে উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

“মানুষের পাশে মানুষ’–রাজারহাটে অনন্য দৃষ্টান্ত ইউএনওর, সংবাদ দেখে ছুটে গেলেন প্রতিবন্ধী রফিকুলের বাড়ি।

রতন রায় : কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি / ৩১ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

42

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আবারও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান। গণমাধ্যমে অসহায় প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলামের করুণ চিত্র দেখার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে পাশে দাঁড়ান। শুধু খাদ্য ও অর্থ নয়, দিলেন ঘর আর দোকানের আশ্বাস। বুধবার দুপুরে উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের বাছড়া বালাটারী গ্রামে এই মানবিক স্পর্শ পায় গ্রামবাসী ।

৭৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম পঙ্গু। তার স্ত্রী আমেনা খাতুন প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন। দিনের পর দিন তাদের সংসার চালাতেই ভিন্নপথ ছিল না -ভিক্ষাবৃত্তিই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু গত ১৭ এপ্রিল স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে তাদের বেদনাদায়ক জীবনের খবর প্রকাশের পর নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে থাকে চিত্র।

খবরটি নজরে আসে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরানের। তিনি আর দেরি না করে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১ টার দিকে নিজেই উপস্থিত হন রফিকুলের ছাপরা বাড়িতে। সাথে নিয়ে যান খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ। তবে থেমে যাননি সেখানে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউএনও স্পষ্ট ঘোষণা দেন”ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর আওতায় রফিকুল ইসলামের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, বাছড়া বাজারে তার পুরনো টং দোকানটি সংস্কার করে দেয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। রফিকুলের চোখেমুখে তখন অন্যরকম এক আলো।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, রাজারহাট ‘পথের আলো’র সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলের “আহ্বায়ক ” শিক্ষক, সমাজসেবক, মোঃ আনিছুর রহমান লিটন, টি আর মটরস-এর স্বত্বাধিকারী রায়হানুল ইসলাম, নাজিমখান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জামাল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।

স্থানীয়রা জানান, খবর প্রকাশের পর সমাজের নানা স্তরের মানুষ নিজে থেকেই রফিকুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ইউএনও নিজে উদ্যোগ নিয়ে শুধু সহায়তা নয়, ভবিষ্যতের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আর ভিক্ষা করতে হবে না আল্লাহর দোহাই। এখন দোকানটা ঠিক করে দিলে বউ আর আমি দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারব।”

ইউএনও মো. আল ইমরান বলেন, “একটি সংবাদ কাউকে কাঁদাতে পারে, আবার কাউকে জাগাতে পারে। আমরা চাই, এই পরিবার যেন সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসে। ঘর আর দোকান দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই লক্ষ্য।”

দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপনের পর রফিকুলের কুঁড়েঘরে আজ হাসির দিন। সংবাদ প্রকাশের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় প্রশাসনের এমন মানবিক ভূমিকা দেখে এলাকাজুড়ে প্রশংসার স্রোত। গ্রামের মুরুব্বিরা বলছেন, “ইউএনও স্যারকে দেখে মনে হয়েছে, মানুষ মানুষের জন্য এখনও আছে।”


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা