ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে চরম অসন্তোষ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাঠানোর মার্কিন অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিল লন্ডন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্পের মতে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় তারা সম্ভবত শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্ত হবে। তবে তাদের উচিত ছিল শুরু থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে দাঁড়ানো।” বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে ব্রিটিশদের এই দোদুল্যমানতা তাকে ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এমন কিছু দেশ আছে যাদের যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বহিঃশত্রু থেকে রক্ষা করেছে, অথচ আজ সংকটের সময় তারা প্রয়োজনীয় উৎসাহ দেখাচ্ছে না।
ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন হামলার কারণে বর্তমানে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জোট গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শিগগিরই সেই দেশগুলোর নাম ঘোষণা করবেন যারা এই অভিযানে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে রাজি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান ট্রাম্প। তার দাবি, মাখোঁ হরমুজ প্রণালির বাধা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। মিত্রদের এই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।