মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির তীব্র সমালোচনা করে তার পরিচালিত সামরিক অভিযানকে ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি এডওয়ার্ড জোনাথন ডেভি। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই একপাক্ষিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যাবতীয় দায়ভার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন সংসদ অধিবেশনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বিবৃতি দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ডেভি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হঠকারী সামরিক পদক্ষেপ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেই বিপন্ন করছে না, বরং সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও তিনি ইরানি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন, তবে ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এডওয়ার্ড ডেভি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক বিকল্পগুলো যাচাই করা অপরিহার্য। তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তার মতে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে এ ধরনের হামলা চালানো বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন কড়া সমালোচনা লন্ডন ও ওয়াশিংটনের চিরাচরিত কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের এই বিতর্ক বৈশ্বিক রাজনীতিকে আরও মেরুকরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।