• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
হরিপুরে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু জয়পুরহাটে শিশুকে বেধড়ক মারধর, থানায় মামলা কুড়িগ্রামে চারদিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টি মেলা ও জেলা ফল মেলার উদ্বোধন কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান, আটক গবাদিপশুসহ নানা চোরাচালানি পণ্য সলঙ্গায় মাদক বাল্যবিবাহ ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতামুলক উঠান বৈঠক শেরপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি সিরাজ উন্নত পুষ্টিচর্চার প্রসারের জন্য স্বাস্থ্যকর শিশু প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় ২ হাজার ইয়াবাসহ কক্সবাজারের করিম গ্রেপ্তার ‎সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএমের অপসারণ দাবিতে উল্লাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত যাদুরাণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জিংক সমৃদ্ধ ধান নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরদের পথভ্রান্তি: সংকটের স্বরূপ ও সামাজিক উত্তরণের পথ

নাহিদ হাসান রবিন লেখক: কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট / ১২ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

16


সম্পাদকীয়

কিশোরদের পথভ্রান্তি: সংকটের স্বরূপ ও সামাজিক উত্তরণের পথ

নাহিদ হাসান রবিন
কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কিশোরদের পথভ্রান্তি

শহরের ঘিঞ্জি গলি থেকে শুরু করে মফস্বলের প্রশস্ত পথ, আজকাল সবখানেই এক চেনা অথচ উদ্বেগজনক দৃশ্য চোখে পড়ে। একদল কিশোর দল বেঁধে ঘুরছে, কারো হাতে দামি স্মার্টফোন, কেউবা দ্রুতগতির মোটরবাইক নিয়ে মরণনেশায় মেতেছে। আপাতদৃষ্টিতে একে শৈশব-কৈশোরের সাধারণ চপলতা বা বন্ধুত্বের আড্ডা মনে হতে পারে, কিন্তু এই দৃশ্যপটের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট।

“কিশোরদের পথভ্রান্তি আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা, আর তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।”

বর্তমান যুগের কিশোরদের প্রধান সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ ও শিক্ষার অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও, কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খেলার মাঠ, লাইব্রেরির বইয়ের ঘ্রাণ কিংবা ভোরের নির্মল সূর্যের আলো তাদের কাছে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

কিশোর গ্যাং ও সামাজিক সংকট

কৈশোর হলো এমন এক সন্ধিক্ষণ যখন একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়। এই সময়ে আত্মপরিচয়ের সংকট, সাহসিকতা প্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা এবং দলগত পরিচয়ের চাহিদা প্রবল থাকে। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা ভুল পথে ঝুঁকে পড়ে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা

অভিভাবকদের উচিত সন্তানের বন্ধু, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মানসিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা। শাসনের চেয়ে খোলামেলা আলোচনা ও বন্ধুসুলভ সম্পর্ক কিশোরদের বিপথগামিতা রোধে অধিক কার্যকর।

একইভাবে বিদ্যালয় কেবল পরীক্ষার ফলাফল তৈরির কেন্দ্র নয়; এটি জীবন গঠনের পাঠশালা। শিক্ষকের মমতা, নৈতিক শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সমাধানের পথ

  • প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ ও পাঠাগারের ব্যবস্থা
  • সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম বৃদ্ধি
  • ডিজিটাল লিটারেসি শিক্ষা
  • কমিউনিটি সেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা
  • অভিভাবক-সন্তান বন্ধুসুলভ সম্পর্ক
  • নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার প্রসার

কিশোররা একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের শক্তি, উদ্যম ও স্বপ্নকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ। তাই আজই সময় তাদের হাত ধরা, তাদের কথা শোনা এবং তাদের জন্য এমন এক সমাজ গড়ে তোলা যেখানে বিভ্রান্তি নয়, থাকবে সম্ভাবনার আলো।


নাহিদ হাসান রবিন
কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা