নাহিদ হাসান রবিন
কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
শহরের ঘিঞ্জি গলি থেকে শুরু করে মফস্বলের প্রশস্ত পথ, আজকাল সবখানেই এক চেনা অথচ উদ্বেগজনক দৃশ্য চোখে পড়ে। একদল কিশোর দল বেঁধে ঘুরছে, কারো হাতে দামি স্মার্টফোন, কেউবা দ্রুতগতির মোটরবাইক নিয়ে মরণনেশায় মেতেছে। আপাতদৃষ্টিতে একে শৈশব-কৈশোরের সাধারণ চপলতা বা বন্ধুত্বের আড্ডা মনে হতে পারে, কিন্তু এই দৃশ্যপটের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকট।
“কিশোরদের পথভ্রান্তি আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা, আর তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা।”
বর্তমান যুগের কিশোরদের প্রধান সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ ও শিক্ষার অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও, কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খেলার মাঠ, লাইব্রেরির বইয়ের ঘ্রাণ কিংবা ভোরের নির্মল সূর্যের আলো তাদের কাছে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
কৈশোর হলো এমন এক সন্ধিক্ষণ যখন একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠিত হয়। এই সময়ে আত্মপরিচয়ের সংকট, সাহসিকতা প্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা এবং দলগত পরিচয়ের চাহিদা প্রবল থাকে। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা ভুল পথে ঝুঁকে পড়ে।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানের বন্ধু, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মানসিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা। শাসনের চেয়ে খোলামেলা আলোচনা ও বন্ধুসুলভ সম্পর্ক কিশোরদের বিপথগামিতা রোধে অধিক কার্যকর।
একইভাবে বিদ্যালয় কেবল পরীক্ষার ফলাফল তৈরির কেন্দ্র নয়; এটি জীবন গঠনের পাঠশালা। শিক্ষকের মমতা, নৈতিক শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম একজন কিশোরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিশোররা একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের শক্তি, উদ্যম ও স্বপ্নকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে গড়ে উঠবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ। তাই আজই সময় তাদের হাত ধরা, তাদের কথা শোনা এবং তাদের জন্য এমন এক সমাজ গড়ে তোলা যেখানে বিভ্রান্তি নয়, থাকবে সম্ভাবনার আলো।