রাজশাহীতে বহুতল ভবনের নির্মাণ ত্রুটিতে হোটেলের ক্ষতি: পাওনা টাকা চাওয়ায় মালিককে প্রাণনাশের হুমকি
রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে পাশের একটি আবাসিক হোটেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলের পাওনা টাকা দাবি করায় মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত এনামুল হকের পুত্র মোঃ এনাজুল হক (৩৪) মহানগরীর শুভ পেট্রোল পাম্পের পাশে ‘হোটেল হক’স ইন’ (Hotel Haq’Sinn) নামক একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনা করেন। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে উক্ত হোটেলের পাশে ‘জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ’ লি: ২১ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে। নির্মাণ কাজ চলাকালীন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় এনামুল হকের মালিকানাধীন হোটেলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
ভুক্তভোগী জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলে জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজের সাথে একটি সমঝোতা হয়। সেখানে হোটেল সংস্কার ও ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ভবন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা পরিশোধে গড়িমসি শুরু করে।
“ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মাত্র ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। অবশিষ্ট টাকা চাইতে গেলে মালিককে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত তুহিন (৪৫) এবং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উক্ত ইউনিয়ন আ”লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান (৪৪) এনাজুল হককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে এবং পাওনা টাকা উদ্ধারের দাবিতে ভুক্তভোগী এনাজুল হক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজের কতৃপক্ষ ‘তুহিন’ হোটেল হক’স ইনের কতৃপক্ষ এনাজুল হক অমি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। প্রথমে তুহিন বলেন, অমি চাঁদা দাবি করেছেন। এরপর আবারও তিনি অপহরণের নাটক সাজায়। ক্ষতিপূরণে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে গণমাধ্যমেসহ সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার করছে বলে দাবি করেছেন অমি।
এ বিষয়ে জানতে জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজের তুহিনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শামসুল ইসলাম
রাজশাহী
০১৭১১৩৯৫২৩৯