আগামী ৫ বছরে ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা
—কুড়িগ্রামে ত্রাণমন্ত্রী দুলু
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, আগামী ৫ বছরে ৭ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে ৪টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি খালের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। খালগুলো পুনঃখনন হলে কৃষি কাজে কৃষকরা ব্যাপক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি খালে মাছ চাষ এবং দুই ধারে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় খাল খনন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় দাসেরহাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড ছড়া পর্যন্ত সংযোগ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় বজ্রপাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে গত দুই-তিন বছরে বজ্রপাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এসব এলাকায় বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন ও বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও সাইক্লোন সেন্টারের মতো বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্রও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মানুষের প্রাণহানি কমানো সম্ভব হয়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামের বৃহৎ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। ভারতের প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনের কোনো প্রভাব এই প্রকল্পে পড়বে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম কুদরত এ খুদা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল, হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।