কম্বোডিয়া সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই থাইল্যান্ডে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন দল ‘ভূমিজাই থাই পার্টি’। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির নির্বাচন কমিশন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থাই পার্লামেন্টের মোট আসন ৪৯২টি। সরকার গঠন করতে হলে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ২৪৬টি আসনে জয়ী হতে হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী:
কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখন জোট সরকার গঠনই একমাত্র পথ। তবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আনুতিন চার্নভিরাকুলই জোট সরকারের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
৫৮ বছর বয়সী আনুতিন একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে আদালত অযোগ্য ঘোষণা করলে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আনুতিন। উল্লেখ্য, পায়েতংতার্ন ছিলেন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে।
থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি গত কয়েক বছর ধরে বেশ টালমাটাল। গত দুই বছরে দেশটিতে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছেন। এছাড়া গত ডিসেম্বরে কম্বোডিয়া সীমান্তে থাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আনুতিন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সীমান্ত সংঘাতে আনুতিনের ‘কঠোর অবস্থান’ ও জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তিই তাকে এই নির্বাচনে বড় জয় পেতে সাহায্য করেছে।
নির্বাচনে জয়ের পর আনুতিন জানান, “এই জয় সকল থাই জনগণের। আমরা একটি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের দিকে তাকিয়ে আছি।” এখন অন্যান্য ছোট দলগুলোর সাথে আলোচনা করে খুব শীঘ্রই নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা গঠন করবেন তিনি।