মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড় ধরনের অভিযানের দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশজুড়ে অন্তত ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের পুলিশপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদরেজা রাদান এই গণগ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহমেদরেজা রাদান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বা ২৫০ জনই সরাসরি ‘গুরুতর অপরাধের’ সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করতে শত্রুপক্ষকে তথ্য সরবরাহ করেছেন। এ ছাড়া হামলার শিকার হওয়া বিভিন্ন স্থানের ভিডিও বা ছবি তুলে বিদেশে পাঠানোর সময়ও অনেককে হাতেনাতে ধরা হয়েছে।
বিশেষ করে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে ডজনখানেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সংবেদনশীল তথ্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠাতেন। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানকে আক্রমণের চেষ্টা করছে, তখন তারা দেশের ভেতরেও দাঙ্গা ও অস্থিরতা তৈরির জন্য এই ‘ভাড়াটে গুপ্তচরদের’ সক্রিয় করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে লন্ডনে অবস্থিত ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ টেলিভিশনের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করা প্রায় ২৫০ জন ব্যক্তি রয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাদান। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের এই ব্যাপক অভিযানকে একটি ‘বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি’ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।