• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ শিশু ৪৪ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার হরিপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন মধু মাসে স্বাদের ছোয়া কাসুন্দি জনবহুল ও শিক্ষাবান্ধব এলাকা বাদ দিয়ে প্রস্তাবিত বাইপাসের নতুন নকশা প্রণয়নের দাবিতে মানববন্ধন হরিপুর যাদুরাণী বাজারে ধানের বাজার চাঙ্গা বগুড়া শেরপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল দাখিল পরীক্ষার্থীর কুড়িগ্রামে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, সীমান্তে উত্তেজনা রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলে লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট বসছে

মধু মাসে স্বাদের ছোয়া কাসুন্দি

জি এম সপ্না, স্টাফ রিপোর্টার / ১৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

23

 

আম,কাঁঠাল লিচুর মতো রসালো ফলে ভরা মৌসুম মধু মাসে ফিরে আসছে ঐতিহ্যবাহী স্বাদের ছোয়া কাসুন্দি।
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এলেই প্রকৃতিতে নামে মধুমাসের উৎসব আর আমেজ।চারদিকে পাকা আম,কাঁঠাল আর লিচুর সুবাস জানান দেয় রসালো ফলের আগমনী বার্তা।এই সময় কাঁচা-পাকা আমসহ বিভিন্ন টক ফলের সঙ্গে বাঙালির রসনায় বিশেষ জায়গা দখল করে নেয় কাসুন্দি।এক সময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হতো ঘরোয়া কাসুন্দি।তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।এখন স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী শাস ও সরিষা দিয়ে তৈরি কাসুন্দি হাটবাজারে বিক্রি করে ঐতিহ্যের সেই স্বাদ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
কাসুন্দি মূলত সরিষা,মরিচ,হলুদসহ নানা মসলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঝাঁঝালো ও সুস্বাদু খাবার।কাঁচা আম, শসা,কুল কিংবা অন্যান্য টক ফলের সঙ্গে এটি খেতে বেশ জনপ্রিয়।বিশেষ করে মধুমাসে কাঁচা আমের সঙ্গে কাসুন্দির স্বাদ যেন আলাদা মাত্রা যোগ করে।
গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য,আগে বাড়ির গৃহিণীরা নিজ হাতে কাসুন্দি তৈরি করতেন।পরিবারের সবাই মিলে কাঁচা আম কেটে,সরিষা বেটে নানা উপকরণ মিশিয়ে তৈরি হতো বছরের সেরা স্বাদের কাসুন্দি।এটি শুধু খাবার নয়,ছিল পারিবারিক ঐতিহ্য ও উৎসবের অংশও।
বর্তমানে ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও সময়ের অভাবে ঘরে কাসুন্দি তৈরির প্রবণতা কমে গেছে।সেই সুযোগে কিছু উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী বাণিজ্যিকভাবে কাসুন্দি তৈরি করে বাজারজাত করছেন। হাটবাজারে বোতলজাত কাসুন্দির চাহিদাও বেড়েছে।অনেকেই পুরোনো দিনের স্বাদ ফিরে পেতে এসব কাসুন্দি কিনছেন।
সলঙ্গা হাটের বিক্রেতা রজব জানান, মধুমাস শুরু হলেই কাসুন্দির বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।বিশেষ করে কাঁচা আমের মৌসুমে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।সলঙ্গার ঘুড়কা,সাহেবগঞ্জ,নলকা,পাঁচলিয়া,উনুখা-দবিগঞ্জসহ আসেপাশের বিভিন্ন বাজারে এ সব স্বাদের কাসুন্দি পাওয়া যাচ্ছে।যার মধ্যে ঝাল,টক ও মিষ্টি স্বাদের কাসুন্দি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়।
খাদ্যপ্রেমীদের মতে,আধুনিকতার ভীড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী খাবার কাসুন্দিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক উদ্যোগ।ঘরোয়া কাসুন্দির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারলে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা