শয্যাশায়ী হয়ে দুই বছর পার করে ফেলেছেন। বিছানাই হয়ে উঠেছে পৃথিবী। চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিনের জ্বালা-যন্ত্রণা আর অসহায় স্ত্রীকে দেখে মনের কষ্ট দুটোই যেন তাকে শেষ করে দিচ্ছিল। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপাশার ইউনিয়নের জোলাপাড়া গ্রামের প্যারালাইড মোঃ আব্দুল হামিদ (৭০) ও তার স্ত্রী মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। নেই অর্থ, নেই খাদ্যের নিশ্চয়তা, নেই চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা।
প্রায় দুই বছর আগে আকস্মিকভাবে প্যারালাইড হয়ে যান আব্দুল হামিদ। এরপর থেকে তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেননি। স্বামীর সেবা আর সংসারের হাজার দুশ্চিন্তায় নীরবে কষ্ট করছেন তার বয়স্কা স্ত্রী। প্রতিদিন দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেন চরম সংকট। এমন খবর পৌঁছায় সামাজিক সংগঠন ‘পথের আলো’র কর্ণধারদের কাছে।
এই তথ্য সংগঠনটির সঙ্গে শেয়ার করেন মতিউল ইসলাম। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভাবী এই দম্পতির খোঁজ নিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে আসার সুযোগ করে দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ‘পথের আলো’র সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক,সাংবাদিক-মোঃ আনিছুর রহমান লিটন, বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক মজনু সরকার, সদস্য সচিব মোঃ রবিউল ইসলাম রাজু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আব্দুর রউফ, সদস্য কবিরুল ইসলাম, সকাল টিভির সাংবাদিক আকবর আলী এবং এ ওয়ান টিভির সাংবাদিক “রতন রায়” স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পথের আলো সংগঠনের পক্ষ থেকে আব্দুল হামিদ ও তার স্ত্রীকে খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, চিকিৎসার জন্য এলাকার বিত্তবান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয়রা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
এ সময় উক্ত সংগঠনের সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান লিটন সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন সবার সাধ্য মতো অসহায়দের পাশে দাঁড়াই। একটি অসহায় পরিবারকে খাদ্যসহায়তা ছোট ব্যাপার না, এটি মানবতার বাঁচানো কাজ’
বর্তমান-আহ্বায়ক মজনু সরকার জানান, সংগঠনটি নিয়মিতভাবে অসহায় ও দুস্থদের সন্ধান করে সহায়তা দিয়ে আসছে। আব্দুল হামিদের চিকিৎসার জন্য যদি কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে এ পরিবার একটু স্বস্তি পাবে।
স্থানীয়রা জানান, এই বৃদ্ধ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে নীরব যন্ত্রণা ভোগ করছিলেন। ‘পথের আলো’ সংগঠনটি যদি সময়মতো এগিয়ে না আসত, হয়তো অনাহারেই শেষ হয়ে যেত তাদের দিনকাল।
পাঠক প্রতি আহ্বান যদি আপনিও আপনার এলাকায় এমন অসহায় পরিবার দেখে থাকেন, তবে প্রয়োজনে এগিয়ে আসুন। সামাজিক সংগঠন পথের আলোর মতো হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা আমাদের প্রত্যেকের থাকা উচিত।
রতন রায় :জেলা প্রতিনিধি,
01886979256